৮৭৫ সালে, ৬৫ বছর বয়সে আব্বাস ইবনে ফিরনাস কাঠ এবং পালকের তৈরী একটি ঝুলন্ত গিল্ডার দিয়ে উড়ার চেষ্টা করেছিলেন, যেটি তিনি ঘন্টার পর ঘন্টা পাখির উড়ার বিষয় পর্যবেক্ষণ করে তৈরী করেছিলেন।

চিত্র :আব্বাস ইবনে ফিরনাস

কর্ডোভার রুসাফা প্রাসাদ থেকে তিনি লাফ দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে তিনি কয়েক মিনিট উড়েছিলেন আর সেটি ছিলো বর্তমানে আকাশে শিকারী পাখির মতো উড়া।

তিনিই “সর্বপ্রথম উড়ে যাওয়া মানুষ” হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এছাড়াও তিনি একটি জলঘড়ির নকশা তৈরী করেছিলেন, সেই সাথে তিনি কাঁচ তৈরির উপায় চিহ্নিত করেছিলেন এবং একটি রিং এর চেইন বিকশিত করেছিলেন যা গ্রহ ও নক্ষত্রের গতি প্রদর্শন করতে ব্যবহৃত হতো। আরও তিনি পাথর কাটার একটি প্রক্রিয়াও বিকশিত করেন। তারপর থেকে স্পেনে আর মিশরের কোয়ার্ট রপ্তানির দরকার পড়েনি, তখন ঘরে বসেই এটা সম্পূর্ণ করা যেত।

আব্বাস ইবনে ফিরনাস ছিলেন একজন আন্দালুসিয়ান পলিম্যাথ, আবিষ্কারক,জ্যোতির্বিদ,চিকিৎসক,রসায়নবিদ,প্রকৌশলী এবং একজন আরবি ভাষার কবি।
রাইট ভাইদের প্রথম মটরচালিত বিমান আবিষ্কারের কথা হয়তো শুনেছেন কিন্তু সত্য হলো তাদের থেকেও শত শত বছর আগে একজন মুসলিম এটি আবিষ্কার করেছিলেন।

এক নজরে চির অমর নায়ক “সালমান শাহ্” ❤️

চিত্র :নায়ক সালমান শাহ।

♦️আসল নাম : চৌধুরী সালমান শাহরিয়ার ইমন

♦️জন্ম : ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১, রবিবার

♦️বাবা : কমর উদ্দিন চৌধুরী

♦️মা : নীলা চৌধুরী

♦️স্ত্রী : সামিরা

♦️উচ্চতা : ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি

♦️রাশি : বৃশ্চিক

♦️প্রথম চলচ্চিত্র : কেয়ামত থেকে কেয়ামত

♦️শেষ ছবি : বুকের ভেতর আগুন

♦️প্রথম নায়িকা : মৌসুমী

♦️সর্বাধিক ছবির নায়িকা : শাবনূর (১৪টি)

♦️মোট ছবি : ২৭টি

♦️বিজ্ঞাপনচিত্র : মিল্ক ভিটা, জাগুরার, কেডস, গোল্ড স্টার টি, কোকাকোলা, ফানটা।

♦️ধারাবাহিক নাটক : পাথর সময়, ইতিকথা।

♦️একক নাটক : আকাশ ছোঁয়া, দোয়েল, সব পাখি ঘরে ফেরে, সৈকতে সারস, নয়ন, স্বপ্নের পৃথিবী।

♦️মৃত্যু : ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬, শুক্রবার

🌺সালমান শাহ্ অভিনীত সিনেমার তালিকা :

♦️কেয়ামত থেকে কেয়ামত – ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ

♦️তুমি আমার – ১৯৯৪ সালের ২২ মে

♦️অন্তরে অন্তরে – ১৯৯৪ সালের ১০ জুন

♦️সুজন সখী – ১৯৯৪ সালের ১২ আগস্ট

♦️বিক্ষোভ – ১৯৯৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর

♦️স্নেহ – ১৯৯৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর

♦️প্রেমযুদ্ধ – ১৯৯৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর

♦️কন্যাদান – ১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ

♦️দেনমোহর – ১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ

♦️স্বপ্নের ঠিকানা – ১৯৯৫ সালের ১১ মে

♦️আঞ্জুমান – ১৯৯৫ সালের ১৮ আগস্ট

♦️মহামিলন – ১৯৯৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর

♦️আশা ভালোবাসা – ১৯৯৫ সালের ১ ডিসেম্বর

♦️বিচার হবে- ১৯৯৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি

♦️এই ঘর এই সংসার – ১৯৯৬ সালের ৫ এপ্রিল

♦️প্রিয়জন – ১৯৯৬ সালের ১৪ জুন

♦️তোমাকে চাই – ১৯৯৬ সালের ২১ জুন

♦️স্বপ্নের পৃথিবী – ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই

♦️সত্যের মৃত্যু নেই – ১৯৯৬ সালের ৪ অক্টোবর

♦️জীবন সংসার – ১৯৯৬ সালের ১৮ অক্টোবর

♦️মায়ের অধিকার – ১৯৯৬ সালের ৬ ডিসেম্বর

♦️চাওয়া থেকে পাওয়া – ১৯৯৬ সালের ২০ ডিসেম্বর

♦️প্রেম পিয়াসী – ১৯৯৭ সালে

🌺সালমান শাহ্ সম্বন্ধে কিছু কথা : “সালমান শাহ্” নামটি বাংলা চলচ্চিত্রের নব্বই দশকের উজ্জ্বল এক ধুমকেতুর নাম।যিনি হুট করে এসে বাংলা বাংলাদেশ ফিল্ম ইণ্ডাষ্ট্রি তথা কোটি দর্শকদের মন জয় করে খুব তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছিলেন।আমার এই লিখাটি চির অমর নায়ক সালমান শাহ্ সম্পর্কে সবাইকে একটা পরিপূর্ণ ধারণা দেয়ার চেষ্টা মাত্র।সালমান শাহ্-কে নিয়ে এই লিখাটি সম্পূর্ণ আমার নব্বই দশকে হলে দেখা একজন দর্শকের চোখ দিয়ে দেখার বর্ণনা।

চাকরির সাক্ষাৎকারে কাজে দেবে যে টিপস।

ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢোকার আগে বসে না থেকে কোম্পানিটি সম্পর্কে তথ্য জেনে নিন। ছবি: ফ্রিপিক
ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢোকার আগে বসে না থেকে কোম্পানিটি সম্পর্কে তথ্য জেনে নিন। ছবি: ফ্রিপিক

চাকরির সাক্ষাৎকার বা ভাইবাতে গেলে অনেকই বুঝতে পারেন না কি করবেন আর কি করবেন না। কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলেই আপনার চাকরি প্রাপ্তির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় অনেকটাই। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাসনদের পাশাপাশি এসময় আপনার উপস্থিত বুদ্ধি, যোগ্যতা ও উপস্থাপনার গুণ পরখ করা হয়। মূলত সাক্ষাৎকার শেষে নিয়োগকর্তা যোগ্যপ্রার্থীকেই বেছে নেন। তাই সাক্ষাৎকারে যাওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

যে প্রতিষ্ঠানে আপনি সাক্ষাৎকার দিতে যাচ্ছেন, সেটি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। সেই কোম্পানির নিয়মকানুন, কার্যক্রম ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে রাখুন। তাহলে যে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনার জন্য সহজ হবে।

আপনি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে পারবেন এবং যে কোন পরিস্থিতি থেকে কাজ করতে আগ্রহী সেটা প্রদর্শন করুন কথাবার্তায়।

শুধু সবার উত্তর দিয়ে চুপ থাকবেন না, প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন যে পদে যোগ দিতে চাইছেন সে পদের ভূমিকা কি হবে। এছাড়া টিম সম্পর্কে প্রশ্ন করা যেতে পারে। তাহলে তাদের আপনাকে বেশি যোগ্য মনে করতে সহজ হবে।

আপনার আচরণ ও ভঙ্গিমায় আত্মবিশ্বাস ফুটিয়ে তুলেন। যেমন হ্যান্ডশেক করা, স্পষ্টভাবে কথা বলা ও সোজা হয়ে বসা। এগুলো আপনার সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেবে নিয়োগকর্তাকে।

নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা খুবই সম্পর্কে সংক্ষেপে বলবেন। খুব বেশি দীর্ঘ করা যাবে না। 

পোশাক যেন অবশ্যই পরিপাটি হয়। সাক্ষাৎকারে ফর্মাল পোশাক আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলবে।

প্রবাসী জীবন থেকে কী হারাচ্ছে?

প্রবাসের চিত্র

আপনি যখন অনেককিছু পাওয়া শুরু করবেন, তখন ঐদিকেও খেয়াল রাখবেন কী কী হারাচ্ছেন।

ইদানীং সিলেটের অনেকেই ইউকে, ইউএসএ, কানাডাতে যাচ্ছে। বিগত সময়ের তুলনায় গতো ২-৩ বছরের বিদেশ যাবার হার অনেক বেশি।

‘উন্নত’ দেশগুলোতে গিয়ে মাসে ২৪০ ঘণ্টা ডিউটি করে ৩-৪ লক্ষ টাকা উপার্জন করছেন অনেকেই। এগুলো সবাই জানে। জানে বলেই বিদেশ যাবার হার এতো বেশি।

হঠাৎ করে মানুষ যখন অনেককিছু পাওয়া শুরু করে, তখন সে কী হারাচ্ছে সেটা ইগনোর করা শুরু করে।

যে ছেলে দেশে থাকাবস্থায় ছিলো ভবঘুরে, সেই ছেলে বিদেশ যাবার ২ মাসের মধ্যেই ২/৩ লক্ষ টাকা উপার্জন করছে, বাড়িতে মাস শেষে ৭০/৮০ হাজার টাকা পাঠাচ্ছে। এটা দেখে তো সবাই মহাখুশি।

কিন্তু, সেই ছেলেটা হারাচ্ছে কী?

আমার প্রায় ৯০% বন্ধু এখন ইউরোপ-আমেরিকায়। প্রায়ই কথা বলি।

তাদের কাছ থেকে প্রাপ্তির গল্পের পাশাপাশি তাদের হারানোর গল্পগুলোও শুনি আগ্রহ নিয়ে। তাদের ভাষায় সেগুলোর সামারি করলে এমন হয়:

১.প্রবাসী একভাই, গতো ৩ মাস ধরে এখনও জুমুআর নামাজ পড়িনি!

২. প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর কোনোদিন রোজা ভাঙ্গিনি। বিদেশে আসার পর এবার মাত্র ১০ টা রোজা রাখতে পেরেছি!

৩. শেষ কবে আযান শুনছি আমার মনে নেই!

৪. না, এবার ঈদের দিন ছুটি পাইনি। ঈদের নামাজ পড়েই ডিউটিতে চলে গেছি।

৫. ভাই, সবাই তো খালি দেখে ডলার/পাউন্ড উপার্জন করছি, কিন্তু কষ্টটা তো কাউকে বুঝাতে পারি না। ২৮/৩০ বছর হয়ে গেছে, বিয়ে করতে পারিনি। বিদেশের মেয়েরা যেসব পোশাক পরে কথা বলে, পোশাক পরা না পরা একই! না পারি তাকাতে, না পারি চোখ নামাতে! এমন এক জাহান্নামে আছি!

৬. মা মারা গেলো, শেষ দেখা দেখতে পারিনি। বাবা মারা গেলো, দেশে আসতে পারিনি। মা-বাবা কাউকে দেখতে পারি না, আদর পাই না, সেবাযত্ন করতে পারি না। টাকার মেশিনের মতো শুধু টাকা পাঠাচ্ছি!

উইথ ডিউ রিস্পেক্ট, যারা দেশে থাকে, যাদের ভাই/জামাই/বাবা বিদেশে থাকে, তারা সবচেয়ে সুখে থাকে। পরিবারগুলো দেখলে বুঝবেন, লন্ডনীর ভাই/আমেরিকানীর ভাই সবচেয়ে বড়ো লন্ডনী! দেশে থেকে সে ইচ্ছেমতো ভোগ-বিলাসিতা করতে পারে৷ কিন্তু, কষ্ট করে বিদেশে যে আছে সে।

সমাজ, পরিবার নিজেদের লিভিং স্ট্যান্ডার্ড এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে যে, তাদের এতো এতো টাকা দরকার, যা লন্ডনে যাওয়া, আমেরিকায় যাওয়া ছাড়া ম্যানেজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারের বাকি সদস্য যারা দেশে থাকে, তাদের চাহিদা সীমাহীন। এই চাহিদার বলি হতে হচ্ছে তাদেরকে, যারা মন থেকে ঘৃণা করে মা-বাবাকে ছেড়ে বিদেশে যেতে।

মানুষ যখন ‘টাকার গোলাম’ হয়, তখন দুনিয়াটা তার জন্য জাহান্নাম হয়ে যায়। দুনিয়ায় বসবাসের জন্য টাকার দরকার, কিন্তু টাকাকেই কেন্দ্র করেই যদি আপনার দুনিয়াটা সাজিয়ে ফেলেন, আপনি তখন এই চক্র থেকে বের হতে পারবেন না।

টাকার পেছনে ছুটলে দুনিয়ার জীবনেই লাঞ্চিত হতে হবে। স্পিরিচুয়ালিটি নষ্ট হয়ে গেলে আপনি যতোই উপার্জন করুন না কেনো, দিনশেষে উপার্জিত অর্থ দিয়েই ঘুমের ওষুধ খেতে হবে, এন্টি-ডিপ্রেশন ট্যাবলেট খেতে হবে!

যেই লোক দীর্ঘদিন ধরে আযান শুনে না, জামআতে নামাজ পড়তে পারে না, মুসলিম সমাজে বসবাস করে না, তার স্পিরিচুয়াল কন্ডিশন ভালো হবার কথা না। আজ হোক বা কাল হোক, তার স্পিরিচুয়াল কন্ডিশনকে ভালো রাখতে হলে আইসিউতে পাঠাতে হবে।

হজ্জ ফরজ এমন অগণিত প্রবাসী হজ্জ করতে পারে না৷ দেশে থেকেও মক্কা-মদীনাপ্রেমী অনেকেই উমরাহ করেন। দুই, আড়াইলাখ টাকা হলেই যথেষ্ট।

কিন্তু, বিদেশে থেকে মাসে এমন টাকা উপার্জন করেও অনেকেই পারে না।

কেনো পারে না?

নিজেকে ব্যস্ততার বক্সে তারা এমনিভাবে বন্দী করে নেয়, আল্লাহর জন্য সময় বের করতে পারে না!

নিজের স্পিরিচুয়ালিটি এতোটাই ডাউন করে ফেলে, আল্লাহর ঘরে যাবার ইচ্ছে করার সময় অনেক হিশাব-নিকাশ করা শুরু করে!

আল্লাহ এমন জিল্লতির জিন্দেগী থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন।

মুক্তিযুদ্ধের ছবি ঠিক কেমন ছিল?

বড় গল্পঃ #পঞ্চাশবছরপরে

কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ করছে তার স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর। তখন এই বিষয়টাকে মাথায় রেখে একটা গল্প লিখতে শুরু করি। গল্পটা পড়লে একটা সময়ের ছবি পাওয়া যাবে। মুক্তিযুদ্ধের ছবি ঠিক কেমন ছিল? মূলত যশোর কিংবা তার আশেপাশের শহর ও গ্রামে! সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই কেমন ছিল, সে ছবিও ধরতে চেষ্টা করেছি। পূর্ব পাকিস্থানের ছোট বড় শহর থেকে মানুষ তখন প্রাণ বাঁচাতে গ্রামে পালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ কি জানেন? ৭১ সালে দারুণ বন্যা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে। মানুষের ধারণা ছিল, পাকিস্থানের মিলিটারি উপচে পড়া নদী, নালা, খাল, বিলে ভরা বাংলার গ্রামে যেতে পারবে না। অন্যদিকে রয়েছে শিকারী বিড়ালের মত বিশ্বাস ঘাতক রাজাকার বাহিনী। যারা মিলিটারিকে নিয়ে গেছে গ্রামে গ্রামে। মুক্তি যোদ্ধা মারার নামে নির্বিচারে হত্যা করছে নিরীহ মানুষকে। চুরি ডাকাতি ধর্ষণ তো ছোট বিষয়! সেই হত্যার ছবি, যন্ত্রণার ছবি উঠে এসেছে এই গল্পে। উঠে এসেছে কঠিন সময়ে জেগে থাকা মানবিক মুখের ছবি।

যারা মুক্তিযুদ্ধ চোখে দেখেন নি, এই গল্প পড়লে কল্পনায় কঠিন সেই সময়কে দেখতে পাবেন। বিরাট বিষয় এবং কঠিন বিষয়। তাই লিখতে লিখতে লেখাটা খানিকটা বড়ই হয়ে গিয়েছিল। আজকাল বড় গল্প পত্রিকায় খুব কম ছাপা হয়। ভরসা সেই শারদ সংখ্যা। এটিও একটি সংখ্যাতে প্রকাশিত হয়েছিল। কোন কোন বন্ধুরা তাই পড়েও থাকতে পারেন। বাংলাদেশের অন-লাইন ম্যাগাজিন প্রাণের বাংলা গল্পটাকে কয়েকটি পর্বে তাদের পাতায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করছে। আজ প্রথম পর্ব প্রকাশিত। প্রথম কমেন্টে লিঙ্ক দিলাম। পড়ে দেখুন। ভালো লাগলে, বন্ধুদের বলবেন পড়ে দেখতে।

গুণীজনের ঘটে যাওয়া ঘটনা।

রবীন্দ্রনাথ স্কুল পালিয়েছেন। নজরুল তো বেশি পড়তেই পারলো না। লালন তো বুঝলোই না স্কুল কি জিনিস।অথচ আজ মানুষ তাঁদেরকে নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করছে।
অ্যান্ড্রু কার্নেগীকে তো ময়লা পোশাকের জন্য পার্কেই ঢুকতে দেয় নি। ৩০ বছর পরে উনি সেই পার্কটি কিনে ফেলেন আর সাইন বোর্ড লাগিয়ে দেন “সবার জন্য উন্মুক্ত”।
স্টিভ জবস শুধু মাত্র ১ দিন ভাল খাবারের আশায় ৭ মাইল দূরে পায়ে হেটে মন্দিরে যেতেন।
ভারতের সংবিধান প্রণেতা আম্বেদকর নিম্ন বর্ণের হিন্দু ছিলেন বলে স্কুলের বারান্দায় বসে বসে ক্লাস করতেন। তাঁকে ক্লাসের বেঞ্চে বসতে দেয়া হতো না, কোন গাড়ি তাঁকে নিতো না। মাইলের পর মাইল হেঁটে পরীক্ষা দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান এর ক্যাডেট কলেজে ভর্তির টাকা হাটুরেদের নিকট থেকে টাকা তুলে যোগাড় করেছিলেন তার চাচারা। গরু না থাকায় তিনি নিজে জমিতে লাঙ্গল টেনেছেন একসময়।
সুন্দর চেহারার কথা ভাবছেন? শেখ সাদী এর চেহারা যথেষ্ট কদাকার ছিল, লতা মঙ্গেস্কারের চেহারা মোটেই সুশ্রী নয়। তৈমুর লং খোঁড়া ছিলেন, নেপোলিয়ন বেটে ছিলেন। শচীন টেল্ডুলকারের উচ্চতা তো জানাই আছে। আব্রাহাম লিঙ্কনের মুখ ও হাত যথেষ্ট বড় ছিল।
স্মৃতি শক্তির কথা ভাবছেন? আইনস্টাইন নিজের বাড়ীর ঠিকানা ও ফোন নাম্বার মনে রাখতে পারতেন না।
কিছুই আপনার উন্নতির পিছনে বাধা হতে পারে না। যদি কোন কিছু বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে তা আপনার ভিতরের ভয়। ভয়কে দূরে রেখে জয় করা শিখুন। সাফল্য আসবেই আজ অথবা কাল।

মেয়েদের বহুল ব্যবহৃত সেফটিপিন কে, কীভাবে আবিষ্কার করেছিল?

বস্তুটি ছোট কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয়। বিশেষত নারীদের ফ্যাশনের ক্ষেত্রে তো অপরিহার্য। জামার সঙ্গে উড়ুক্কু ওড়না কিংবা ব্লাউজের সঙ্গে শাড়ির আঁচল আটকে রাখতে সেফটিপিনের ব্যবহার বহু পুরোনো।
১৮৪৯ সালে উদ্ভাবিত হয় সেফটিপিন। উদ্ভাবনের গল্পটাও বেশ মজার। যুক্তরাষ্ট্রের যন্ত্রকৌশলী ওয়াল্টার হান্ট(Walter Hunt) তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে ১৫ ডলার ধার করেছিলেন। কিছুতেই সে ধার শোধ দিতে পারছিলেন না। ভাবছিলেন, এমন কিছু একটা তৈরি করা যায় কি না, যার উপার্জিত অর্থ দিয়ে ধারটা শোধ করা যায়। ভাবতে ভাবতে লম্বা তারের টুকরা বেঁকিয়ে দিলেন সেফটিপিনের আকার। মাথার দিকটায় লাগিয়ে দিলেন একটা খাপ, যাতে গায়ে ফুটে না যায়। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল সেফটিপিন। ১৮৪৯ সালের ১০ই এপ্রিল রীতিমতো পেটেন্ট করিয়ে নিলেন। সেই পেটেন্ট বিক্রি করে পেলেন ৪০০ ডলার। ধার শোধ তো হলোই, দিনে দিনে লাখ লাখ ডলারের মালিক হয়ে উঠলেন।

আসুন জেনে নিইঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার নামকরণের ইতিহাস!

★গেন্ডারিয়া
ইংরেজি শব্দ Grand Area থেকে এসেছে,
এখানে আগেরদিনের অভিজাত ধনী ব্যাক্তিগন থাকত।

★ভুতের গলিঃ
এখানে বৃটিশ একজন লোক থাকতেন নাম ছিল Mr. boot, তার নাম থেকে বুটের গলি,
পরবর্তীকালে ভুতের গলি নাম হয়েছে।

★মহাখালিঃ
মহা কালী নামের এক মন্দীরের নাম থেকে হয়েছে বর্তমানের মহাখালী।

★ইন্দিরা রোডঃ
এককালে এ এলাকায় “দ্বিজদাস বাবু” নামে
এক বিত্তশালী ব্যক্তির বাসাস্থান, অট্টলিকার পাশের সড়কটি নিজেই নির্মাণ করে
বড় কন্যা “ইন্দিরা” নামেই নামকরণ।

★পিলখানাঃ
ইংরেজ শাসনামলে প্রচুর হাতি ব্যবহার করা হোতো । বন্য হাতিকে পোষ মানানো হোতো যেসব জায়গায়, তাকে বলা হোতো পিলখানা ।
বর্তমান “পিলখানা” ছিলো সর্ববৃহৎ।

★এলিফ্যানট রোডঃ
পিলখানা হতে হাতিগুলোকে নিয়ে যাওয়া হতো
“হাতির ঝিল”এ গোসল করাতে,
তারপর “রমনা পার্ক”এ রোঁদ পোহাতো ।
সন্ধ্যের আগেই হাতির দল পিলখানায় চলে আসতো । যাতায়াতের রাস্তাটির নামকরণ
সেই কারণে এলিফ্যান্ট রোড। পথের মাঝে ছোট্ট একটি কাঠের পুল ছিলো, যার নামকরণ হোলো “হাতির পুল”।

★কাকরাইলঃ🏇
ঊনিশ শতকের শেষ দশকে ঢাকার কমিশনার ছিলেন মিঃ ককরেল ।
নতুন শহর তৈরী করে নামকরণ হোলো “কাকরাইল”।

★রমনা পার্কঃ🤼 অত্র এলাকায় বিশাল ধনী রম নাথ বাবু মন্দির তৈরী করেছিলো “রমনা কালী মন্দির” । মন্দির সংলগ্ন ছিলো ফুলের বাগান
আর খেলাধুলার পার্ক ।
পরবর্তীতে সৃষ্টি হয় “রমনা পার্ক”।

★গোপীবাগঃ
গোপীনাগ নামক এক ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন ।
নিজ খরচে “গোপীনাথ জিউর মন্দির” তৈরী করেন । পাশেই ছিলো হাজারো ফুলের বাগান “গোপীবাগ”।

★টিকাটুলিঃ
হুক্কার প্রচলন ছিলো।
হুক্কার টিকার কারখানা ছিলো যেথায়
সেটাই “টিকাটুলি”।

★তোপখানাঃ
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর গোলন্দাজ বাহিনীর
অবস্থান ছিল এখানে।

★পুরানা পল্টন, নয়া পল্টনঃ
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ঢাকাস্থ সেনানিবাসে এক প্ল্যাটুন সেনাবাহিনী ছিল, প্ল্যাটুন থেকে নামকরন হয় পল্টন। পরবর্তীতে আগাখানিরা এই পল্টনকে দুইভাগে ভাগ করেন, নয়া পল্টন ছিল আবাসিক এলাকা আর পুরানো পল্টন ছিল বানিজ্যিক এলাকা ।

★বায়তুল মোকারম নামঃ
১৯৫০-৬০ দিকে প্রেসিডেন্ট আয়ুবের সরকারের পরিকল্পনা পুরানো ঢাকা-
নতুন ঢাকার যোগাযোগ রাস্তার ।
তাতে আগাখানীদের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,
আবাসিক বাড়িঘর চলে যায় ।
আগাখানীদের নেতা আব্দুল লতিফ বাওয়ানী (বাওয়ানী জুট মিলের মালিক) সরকারকে প্রস্তাব দিলো, তারা নিজ খরচে এশিয়ার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মসজিদ তৈরী করবে ।
এটা একটা বিরাট পুকুর ছিল “পল্টন পুকুর”,
এই পুকুরে একসময় ব্রিটিশ সৈন্যরা গোসল কোরতো । ১৯৬৮ সনে মসজিদ ও মার্কেট প্রতিষ্ঠিত হয় ।

★ধানমন্ডিঃ
এখানে এককালে বড় একটি হাট বোসতো ।
হাটটি ধান ও অন্যান্য শস্য বিক্রির জন্য বিখ্যাত ছিল।

★পরীবাগঃ
পরীবানু নামে নবাব আহসানউল্লাহর এক মেয়ে ছিল । সম্ভবত পরীবানুর নামে এখানে একটি বড় বাগান করেছিলেন আহসানউল্লাহ ।
পাগলাপুলঃ ১৭ শতকে এখানে একটি নদী ছিল,
নাম – পাগলা ।
মীর জুমলা নদীর উপর সুন্দর একটি পুল তৈরি করেছিলেন ।
অনেকেই সেই দৃষ্টিনন্দন পুল দেখতে আসত ।
সেখান থেকেই জায়গার নাম “পাগলাপুল”।

★ফার্মগেটঃ
কৃষি উন্নয়ন, কৃষি ও পশুপালন গবেষণার জন্য বৃটিশ সরকার এখানে একটি ফার্ম বা খামার তৈরি করেছিল । সেই ফার্মের প্রধান ফটক বা গেট থেকে এলাকার নাম হোলো ফার্মগেট।

★শ্যামলীঃ
১৯৫৭ সালে সমাজকর্মী আব্দুল গণি হায়দারসহ বেশ কিছু ব্যক্তি এ এলাকায় বাড়ি করেন ।
এখানে যেহেতু প্রচুর গাছপালা ছিল
তাই সবাই মিলে আলোচনা করে
এলাকার নাম রাখেন শ্যামলী।

★সূত্রাপুরঃ
কাঠের কাজ যারা করতেন তাদের বলা হত সূত্রধর ।
এ এলাকায় এককালে অনেক
শূত্রধর পরিবারের বসবাস ছিলো ।
সেই থেকেই জায়গার নাম হোলো সূত্রাপুর।

ভিস্তিওয়ালাদের সঙ্গে রয়েছে ইতিহাস।

আজকাল ট্রেনে বাসে রাস্তায় রেস্তোরাঁয় সর্বত্রই জল তেষ্টা পেলে আমাদের হাতে উঠে আসে ঠান্ডা বা নর্মাল সিল করা জলের বোতল।
কিন্তু এই ফ্রিজ তো হালে এলো!
প্রশ্ন উঠতেই পারে, তখন কি মানুষ ঠান্ডা জল খেতেন না?
আজ্ঞে খেতেন, আলবাত খেতেন।
তখন ফ্রিজ না থাকলেও ছিল ‘ভিস্তি’।
‘ভিস্তি হল এক ধরনের বস্তার মত দেখতে ব্যাগ।
ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি এই বিশেষ থলেকে ‘মশক’ও বলে।
এতে রাখলে ফ্রিজের মতোই ঠান্ডা থাকত জল।
আর স্বয়ং জলদাতা হয়ে এই ভিস্তির জল যারা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন তাদের বলা হত ভিস্তি ওয়ালা।

এই ভিস্তিওয়ালাদের সঙ্গে রয়েছে ইতিহাসের যোগ।
কথিত আছে, মুঘল নবাব হূমায়ুন একবার জলে ডুবে যাচ্ছিলেন।
তখন নবাবকে বাঁচিয়েছিলেন এক ভিস্তিওয়ালা।
এমনকি এই ভিস্তির উপর ভরকরেই সাঁতরে উঠেছিলেন হূমায়ুন।
কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সেই ভিস্তিওয়ালাকে একদিনের জন্য তার আসনেও বসিয়েছিলেন তিনি।
অভিবক্ত ভারতবর্ষের ঢাকায় এবং কলকাতায় জল বিলোনোর কাজ করতেন এই ভিস্তিওয়ালারাই।

কিন্তু স্মার্টফোন সর্বস্ব এই ওভারস্মার্ট যুগে আজকের প্রজন্ম হয়ত জানেইনা ভিস্তিওয়ালাদের কথা।
পার্সি শব্দ ‘বেহেস্ত’ শব্দের অপভ্রংশ হয়ে এসেছে ভিস্তি, এর অর্থ হল স্বর্গ। পৃথিবীর পশ্চিম ও মধ্য প্রান্তে স্বর্গের বেশীরভাগ ছবিতেই মিলেছে নদী ও বাগানের ছবি।
কথিত আছে সেই স্বর্গের নদী থেকে জল এনেই ভিস্তিরা তা বিলিয়ে দিতেন মানুষকে, তাই তাদের স্বর্গের-দূতও বলা হত।

তিলোত্তমাতেও এককালে এদের একচেটিয়া আনাগোনা ছিল।
ভোরবেলা দোর খুলে রাস্তায় বেরোলেই দেখা মিলত ভিস্তিওয়ালাদের।
কাঁধে জল ভরতি চামড়ার ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে পড়তেন মুসলিম সম্প্রদায়ের এই মানুষগুলো।
দিল্লিতেও একসময় ছিল ভিস্তির চল।
তবে এখনও এই প্রাচীন পদ্ধতি বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম জামা মসজিদের বাইরে মুশতাকিম চায়ের দোকান।
দোকানে গেলেই দেখা যাবে, ঝোলানো রয়েছে ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি লম্বা লম্বা ভিস্তি।
বহুযুগ ধরে প্রাচীন দিল্লির সাক্কে ওয়ালি গলিতেই ভিস্তিওয়ালাদের বাস।

কনটান্সিটনোপল এর ইতিহাস।।।

নেপোলিয়ন বলেছিলো, যদি কখনো সমগ্র পৃথিবী একটা দেশে পরিণত হয় তাহলে তার রাজধানী হবার যোগ্যতা রাখে একটি মাত্র শহর, কনটান্সিটনোপল।

কনটান্সিটনোপল ছিল দিগ বিজয়ী বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী। দুই মহাদেশে বিস্তৃত এই শহরে গড়ে উঠে প্রায় ২৫০০ বছর আগে। দুই দিকে সমুদ্র একদিকে পাহাড়, প্রাকৃতিক ভাবেই এই শহরটি সুরক্ষিত। সমুদ্রের ভেতরে রোমানেরা এক জাদুকরি উপায়ে বড় বড় কাঁটাযুক্ত চেইন স্থাপন করেছিলো, শত্রুপক্ষের কোন জাহাজ আসতে গেলে তারা চেইন টেনে দিতো, ফলে মাঝ সমুদ্রে জাহাজের তলা ছিদ্র হয়ে জাহাজ ডুবে যেত। পাহাড়ের উপর দিয়ে কোন সেনাবাহিনী মুভ করা সম্ভব না।

এছাড়া যে দিকে স্থলভাল সেদিকেও বহুস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এই প্রাচীর কোন কোন জায়গা ৫০ ফিট পর্যন্ত পুরু। প্রাচীরের একটু পর গোলন্দাজ বাহিনীর সুরক্ষিত নিরাপত্তা চৌকি, সব মিলিয়ে অভেদ্য শহর কনটান্সিটনোপল।

আমাদের গ্রাম বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, গল্পের গোরু গাছে উঠে। কনটান্সিটনোপলের অভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ঠিক তেমনি একটা প্রবাদ ছিল, যদি কখনো সমুদ্রের জাহাজ কোনদিন পাহাড়ে উঠে তাহলেই কেবল কনটান্সিটনোপল জয় করা সম্ভব।

শত শত বছর ধরে বিভিন্ন পরাক্রমশালী সাম্রাজ্য চেস্টা করেছে কনটান্সিটনোপল দখলের। কিন্তু কেউ একটা দেওয়ালও ভাঙতে পারেনি। সেখানে নতুন ধর্ম ইসলামের নবী কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে হেজাজের একটা অখ্যাত ছোট শহরে বসে উনার কয়েকজন গরিব অনুসারীকে বলেছিলেন,

❝ অবশ্যই তোমরা কুসতুনতিনিয়া জয় করবে। কতই না উত্তম হবে সেই দলের আমির এবং কতই না উত্তম হবে তার জয় লাভকারী সৈন্যরা ❞

উমর আল ফারুক রা. খেলাফতকাল থেকেই মুসলমানেরা একের পর এক কনটান্সিটনোপল অভিযান পরিচালনা করতে থাকে। তবে কেউই সফলতার মুখ দেখেন নাই। হযরত আবু আইউব আনসারী এমন এক অভিযানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যান। মারা যাবার আগে তিনি মুসলমান বাহিনীর কাছে অসিয়ত করেন, যতটা সম্ভব শহরের নিকটে যাও, এবং শহরে ঢোকার রাস্তার মাঝখানে আমাকে কবর দিও যেন ভবিষ্যতে সেই রহমত প্রাপ্ত মুসলমান বাহিনী আমার উপর দিয়ে কুসতুনতিনিয়া প্রবেশ করে।

১৪৫৩ সালে সুলতান মুহাম্মদ কুসতুনতিনিয়া অভিযান চালান। তিনি রুপকথাকেই সিরয়াসলি গ্রহন করেন। এই রুপকথাই বাস্তব হয়ে যায়। সত্যি সত্যিই সমুদ্রের জাহাজ পাহাড়ে উঠে। তিনি পাহাড়ের উপর দিয়ে জাহাজ নিয়ে কনটান্সিটনোপল আক্রমণ করেন। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ও সম্ভবত শেষ ঘটনা যখন জাহাজ পাহাড়ে উঠেছিলো। [ঘটনাটা কতটা অসম্ভব ছিল— পাহাড়ের উপর দিয়ে জাহাজ নিয়ে কসতুনতুনিয়া আক্রমণ করেন। whaaat!? It doesn’t even sound right]

১৪৫৩ সালের ২৯ মে কনটান্সিটনোপলের পতন হয়। বিজয় উপলক্ষে সুলতান মুহাম্মাদের উপাধি হয় আল ফাতিহ— বিজেতা।

মুহাম্মদ আল ফাতির উস্তাদ শায়খ আকশামসউদ্দিন এই সময়ে হযরত আবু আইয়ুব আনসারির কবর খুঁজে পান। আবু আইয়ুব আল আনসারি র. অছিয়তও পূর্ণ হয়। উনার উপর দিয়ে মুসলমান বাহিনী কনটান্সিটনোপলে প্রবেশ করে।

জয়ের দিন, এই ২১ বছর বয়েসি সেনাপতি বলেছিলেন, আজ শহর নয়; আমার হৃদয় জয় করতে যাচ্ছি। তাই বিজয়ের পরে হয়নি কোন লুটপাট, ধ্বংসযজ্ঞ বা নারীদের অপমানের মচ্ছব। সুলতান মুহাম্মদের আগমনে শহরটিও যেন প্রাণ ফিরে পায়।৷

Design a site like this with WordPress.com
শুরু করুন