
সিলেটের জকিগঞ্জে জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়া এবং টাকার দাবিতে পরিবারের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে এক মাদকাসক্ত যুবক। অভিযুক্তের হামলায় গুরুতর আহত মা পিয়ারা বেগম (৬৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় আড়াই বছরের একটি শিশুকন্যাসহ পরিবারের আরও চার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রধান অভিযুক্ত সুমন আহমদকে (৩২) বসতঘর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জকিগঞ্জে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলায় অংশ নিয়েছিল। তার বাড়ি জকিগঞ্জ পৌর এলাকার পঙ্গবট গ্রামে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে সুমন আহমদ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা দাবি করার পাশাপাশি পৈতৃক জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। সে দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত এবং নেশার টাকার জন্যই প্রায়ই পরিবারের ওপর অত্যাচার চালাত।
গত শুক্রবার সম্পত্তি ও টাকার দাবিতে সুমন প্রথমে তার সৎমা কুটিনা বেগমকে (৪৫) রুইল (বাঁশ বা কাঠের লাঠি) দিয়ে আঘাত করে। এতে তার চোখে গুরুতর জখম হয়। পরে সুমনের মা পিয়ারা বেগম সতীন কুটিনা বেগমকে রক্ষা করতে তাকে অপর ছেলে শাহীন আহমদের ঘরে নিরাপদে রাখেন।
পরদিন শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে সুমন আবারও টাকা ও সম্পত্তির দাবিতে তাণ্ডব চালায়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সে সুপারিগাছের রুইল দিয়ে পরিবারের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা করে।
এই পৈশাচিক হামলায় গুরুতর আহত হন মা পিয়ারা বেগম (৬৩), সৎমা কুটিনা বেগম (৪৫), ভাই শাহীন আহমদ (৩৮), ভাইয়ের স্ত্রী শাহানা বেগম (৩২), ইসরাত জাহান (১৪)।
স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার মধ্যরাতে মা পিয়ারা বেগম মারা যান।
ঘটনার পরপরই জকিগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সুমন আহমদকে তার বসতঘর থেকে গ্রেফতার করে।
রোববার তাকে জকিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম সরকারের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় সুমনের আপন বড় ভাই শাহীন আহমদ বাদী হয়ে সুমন আহমদ ও অপর ভাই শামীম আহমদকে (৪৭) আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বাদী শাহীন আহমদ জানান, তার স্ত্রী, শিশু কন্যা ও সৎমায়ের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তিনি ও নিজেও মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের জানান, ছেলের হামলায় আহত পিয়ারা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অভিযুক্ত সুমনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং দায়েরকৃত মামলায় নতুন করে হত্যা ধারায় অভিযোগ সংযোজন করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে থানায় আরও একাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে পরিবারের ওপর এমন নৃশংস হামলা ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত সুমনের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।


মন্তব্য করুন