
২০০৪ সালে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও বিএনপি নেতা জি কে গউছসহ ৯ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে একই মামলায় ছাত্র জমিয়ত শাহারপাড়া মাদ্রাসার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) দুপুরে সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ ২২ বছর পর ঘোষিত এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় ছিল টানটান উত্তেজনা। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খালাসপ্রাপ্ত বিএনপি নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা এই মামলাকে ‘রাজনৈতিক হয়রানি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেরিতে হলেও তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন এবং সত্যের জয় হয়েছে।
অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমদের পরিবার ও আইনজীবীরা এই রায়ে তীব্র ক্ষোভ এবং চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
পরিবারের অভিযোগ:
“দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কারাগারে আটকে রেখে, কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী বা জোরালো প্রমাণ ছাড়াই নাঈমকে এই মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা যেখানে মুক্তি পেয়ে গেলেন, সেখানে একজন নিরীহ মাদ্রাসাছাত্রকে বলির পাঁঠা বানানো হলো।”
হাফেজ নাঈমের পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা এই রায়কে কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছেন না। অনতিবিলম্বে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্টে) আপিল করা হবে এবং সেখানে নাঈম সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পাবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এক রাজনৈতিক জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় এক যুবলীগ কর্মী নিহত হন এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ বহু নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে (বৃহস্পতিবার) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই রায় সোপর্দ করলেন।
