
আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ছিলেন একজন আলেম, তরীকতের মুর্শিদ। তার লেখা অনেক উর্দু ও আরবি গ্রন্থ ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে রয়েছে।
[১] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবী বিভাগের পাঠ্যসূচিতেও তার অনেক গ্রন্থ রয়েছে।
[২] সহীহ শুদ্ধভাবে কোরআন শরীফ তিলাওয়াতের শিক্ষাকে তিনি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
শমসুল ওলামা আল্লামা
আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী
সাহেব কেবলাউপাধিশমসুল ওলামা, রঈসুল কুররা, আয়নায়ে জামালে আহমদী, ওস্তাজুল মোহদ্দিছীনঅন্য নামসাহেব কেবলা ফুলতলীব্যক্তিগত তথ্যজন্ম১৯১৩ (১৩২১ বঙ্গাব্দ)
জকিগঞ্জ, সিলেট, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা বাংলাদেশ)মৃত্যু১৬ জানুয়ারি ২০০৮সিলেট, বাংলাদেশধর্মইসলামব্যবহারশাস্ত্রহানাফিধর্মীয় মতবিশ্বাসসুন্নি ইসলামঅন্য নামসাহেব কেবলা ফুলতলীকাজঅধ্যাপনা, ধর্মপ্রচারক্রমচিশতিয়া, কাদরিয়া, মুজাদ্দেদিয়া, নকশবন্দিয়া এবং মোহাম্মাদীয়াঊর্ধ্বতন পদউত্তরসূরীইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী
শিষ্য
জন্ম ও বংশ পরিচয়সম্পাদনা
আব্দুল লতিফ চৌধুরী ১৩২১ বাংলার ফাল্গুন মাসে অর্থাৎ ১৯১৩ সালের প্রথম দিকে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার ফুলতলী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
[৩] তার পিতার নাম আব্দুল মজিদ।[৪] তিনি শাহ জালাল এর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম শাহ কামাল-এর বংশধর ছিলেন।
শিক্ষাজীবনসম্পাদনা
শিক্ষাজীবনের প্রারম্ভে তিনি তার চাচাতো ভাই ফাতির আলীর নিকট লেখাপড়া করেন। অতঃপর ফুলতলী মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে তিনি বদরপুর সিনিয়র মাদ্রাসায় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। এরপর রামপুর আলিয়া ও মাতলাউল উলুম মাদ্রাসায় হাদিস শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। ১৩৫৫ হিজরীতে তিনি মাতলাউল উলুম মাদ্রাসায় ১ম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে হাদিস শরীফের সর্বোচ্চ সনদ অর্জন করেন। তার গুরুদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আল্লামা খলিলুল্লাহ রামপুরী ও আল্লামা ওয়াজিহুদ্দীন রামপুরী। এ ছাড়া তিনি শাহ আব্দুর রউফ করমপুরী ও শায়খুল কুররা আহমদ হেজাযী এর নিকট থেকে ইলমে কিরাতের সনদ অর্জন করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি শায়খুল কূররার নিকট থেকে ইলমে কিরাতের সর্বোচ্চ সনদ অর্জন করেন।
কর্মজীবনসম্পাদনা
১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তিনি বদরপুর আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৪ সাল থেকে গাছবাড়ী জামেউল উলুম মাদ্রাসায় অধ্যাপনা করেন। এ সময় মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পলন করেন। এরপর সৎপুর কামিল মাদরাসা, ইছামতি ও বাদেদেওরাইল ফুলতলী আলিয়া মাদ্রাসায় হাদিস শাস্ত্র অধ্যাপনা করেন। এ ছাড়া তিনি শুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াত শিক্ষাদানের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট। দেশ বিদেশে প্রতিষ্ঠা করেন অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
পরম্পরাসম্পাদনা
লতিফ চৌধুরী ছিলেন তরীকায়ে কাদেরিয়া, চিশতীয়া, নক্সবন্দীয়া, মুজাদ্দেদিয়া ও মুহাম্মদিয়ার মুর্শিদ। তিনি আজীবন উপর্যুক্ত তরিকা সমূহের প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিত ছিলেন। তার তরিকতের সিলসিলা নিম্নরূপ:
- আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী
- শাহ ইয়াকুব বদরপুরী
- হাফিজ আহমদ জৌনপুরী[৯]
- শাহ কারামত আলী জৌনপুরী
- সাইয়েদ আহমাদ ব্রেলভী
- শাহ আব্দুল আজিজ
- শাহ ওয়ালিউল্লাহ[১০]
রচনাবলীসম্পাদনা
- আত তানভীর আলাত তাফসীর
- মুন্তাখাবুস সিয়র
- আল খুতবাতুল ইয়াকুবিয়া
- আনওয়ারুছ ছালিকীন
- নালায়ে কলন্দর
- শাজরায়ে তাইয়্যিবাহ
- আল কাউলুছ ছাদীদ
মৃত্যুসম্পাদনা
আল্লামা ফুলতলী ১৬ জানুয়ারি ২০০৮ সালে সিলেট শহরে তার প্রতিষ্ঠিত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।ঐদিন বিকাল ৪টা সময় তার গ্রামের বাড়ির পাশে অবস্থিত বালাই হাওরে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে তার প্রতিষ্ঠিত জামে মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
উত্তরসূরীসম্পাদনা
আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারীরা তাঁর উত্তরসূরী হিসেবে মনোনীত করেছেন তাঁর বড় ছেলে মো. ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলীকে। মো. ইমাদ উদ্দিন প্রাথমিক জীবনে শিক্ষকতা করতেন। ১৯৭৮ সালে সৎপুর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ থাকাকালে চাকরি ছেড়ে স্থায়ীভাবে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। এরপর অবৈতনিকভাবে ইছামতি কামিল মাদ্রাসা ও পরে বাদেদেওরাইল কামিল মাদ্রাসায় অধ্যাপনা করেন। পিতার মৃত্যুবরণের পর থেকে তিনি পিতার স্থলাভিষিক্ত হন।
